শবে কদর ২০২৫ কত তারিখে - লাইলাতুল কদর এর ফজিলত
প্রিয় পাঠক এখন আমরা রমজান মাসে রয়েছি রমজান মাসে এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের রাত্রে রয়েছে যে রাত্রিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যদি কোন বান্দা শবে কদরের রাত্রিতে ইবাদত বন্দেগী করে আল্লাহ তা'আলা তাঁর পেছনের এবং সামনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবেন
যে আমি আপনাদের সামনে শবে কদর সম্পর্কে আলোচনা করতে যাচ্ছি যদি আপনারা শবে কদর সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী সম্পূর্ণ দলিল ও প্রমাণ পেতে চান তাহলে ধৈর্য সহকারে আমাদের সাথেই থাকুন
সূচিপত্রঃশবে কদর ২০২৪ কত তারিখে - লাইলাতুল কদর এর ফজিলত
- লাইলাতুল কদর কত তারিখ
- লাইলাতুল কদরের তিনটি বৈশিষ্ট্য
- যার সাথে যার সম্পর্ক তার সাথে তারা হাশর নাসর
- লাইলাতুল কদরের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি করতেন
- শবে কদর কোন সময় হতে পারে
- উপসংহার
লাইলাতুল কদর কত তারিখ
প্রিয় পাঠক রমজান মাস যেহেতু চলে এসেছে সেহেতু তার কদরও বেড়ে গেছে আমরা অনেকেই রমজান মাসের লাইলাতুল কদর নামক একটি রাত্রিকে তালাশ করে থাকি এসে বিষয়ে এখন আমি আপনাদেরকে বলবো
সুরা কদরের মধ্যে আল্লাহতালা বলেন নিশ্চয়ই আমি ইহাকে কদরের রাত্রিতে অবতীর্ণ করেছি, শবে কদর সম্বন্ধে আপনি কি জানেন শবে কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রম্ এটা নিরাপত্তা যা ফজরের উদয়,পর্যন্ত অব্যাহত থাকে লাইলাতুল কদর অর্থ সে সম্পর্কে এখন আমি আপনাদেরকে জানাবো
লাইলন মানে হলো রাত আর কদর অর্থ হলো সম্মানিত সুতরাং লাইলাতুল কদরের অর্থ হলো সম্মানিত রাত বা মহিমান্বিত রাত এরা সারা বছরের সমস্ত রাত অপেক্ষা সর্বাধিক মর্যাদাশীল বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ও মহিমান্বিত বলে এ রাতের নামকরণ করা হয়েছে লাইলাতুল কদর অথবা এ রাতের নাম লাইলাতুল কদর রাখার কারণ হলো যে লোক বা যে ব্যাক্তি মূলত মর্যাদাশীল নয় সেও যদি এ রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত বন্দেগী কান্নাকাটি তাওবা ইস্তেগফার করে সেও মর্যাদাশীল হয়ে যায়
লাইলাতুল কদরের তিনটি বৈশিষ্ট্য
প্রিয় পাঠক লাইলাতুল কদর একটি মহামান্বিত রাত এ রাতের তিনটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা আমরা অনেকেই জানিনা আমি আপনাদেরকে সে তিনটি বৈশিষ্ট্য জানানোর চেষ্টা করব
- এ রাতে মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল করা হয়েছে
- এরা হাজার মাস অপেক্ষা থেকে শ্রেষ্ঠ
- এ রাতে হযরত জিবরাঈল আলাইহি সালাতু সালাম ফেরেশতাদের একদলসহ জমিনে অবতরণ করেন
সূরা কদরে আল্লাহ তা'আলা এ তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন ইবনে আমি হাতেম রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বনি ইসরাইলের জৈনক মুজাহিদ সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন যে সে এক হাজার মাস পর্যন্ত অবিরাম জিহাদে মশগুল থাকে এবং কখনো অস্ত্র সংবরণ করেনি
সাবেক গ্রামে কথা শুনে কিছুটা ঈশ্বর নিত হয়ে পড়েন এর কারণ তারা চিন্তা করলেন আমরা শেষ জামানার নবীর উম্মত আমাদের গড় আয়ু ৬০ ৬৫ বছর আর আগের উম্মতেরা একাধারে জিহাদের মত গুরুত্বপূর্ণ আমলই করেছে এক হাজার মাস আমরা বেশি হায়াত লাভ করলে বেশি বেশি ইবাদত করতে পারতাম আল্লাহ এই উম্মতের উপর কত মেহেরবান সাথে সাথে হযরত সালামকে সূরা কদর দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন হযরত জিব্রাইল হাজির হয়ে রাসূলের নিকট পয়গম পৌঁছে দিলেন যার অর্থ হল নিশ্চয়ই
আমি এই কুরআনকে লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ করেছি ততক্ষণ পর্যন্ত লাইলাতুল কদর সম্পর্কে না নবী কিছু জানেন না সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহ ঘোষণা করলেন আমি এ কোরআনকে লাইলাতুল কদরের নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরের ফজিলত বুঝার জন্য এই আয়াতটি আয়াতে যথেষ্ট কারণ এ রাতে মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল করা হয়েছে আল কুরআন সম্পর্কে হাদিসে রয়েছে আসমান জমিন এবং এদুয়ের মাঝে যা কিছু আছে এসব কিছু থেকে কুরআনি হলো আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় আর আল্লাহ তার এই প্রিয় কালামকে যে রাতে নাযিল করেছেন সে রাত কত ফজিলতের অর্থাৎ নজরে কুরআনের
সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ায় ওই রাজ বছরের সমস্ত রাতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে এর দ্বারা বুঝা যায় যে কোরআনের সঙ্গে যার সম্পর্ক যত বেশি হবে তার মর্যাদা ও তত বেশি হবে তাই কিয়ামতের ময়দানে হাফিজে কুরআনকে বলা হবে পড়তে থাকো আর জ্বলতে থাকো তার দিলের সাথে পড়ো যেমন দুনিয়াতে তার ছেলের সাথে পড়তে কেননা তোমার তেলাওয়াত যেখানে শেষ হবে জান্নাতে তোমার মাকাম সেখানেই হবে
যার সাথে যার সম্পর্ক তার সাথে তারা হাশর নাসর
প্রিয় পাঠক দুনিয়ার মাঝে দেখুন মসজিদে কোরআনের সাথে যে গিলাফটা থাকে তা স্বাভাবিকভাবে কম দামি কাপড়ের হয়ে থাকে আর আপনার টেলিভিশনের উপরের পর্দাটা অনেক মূল্যবান নকশি করা হয়ে থাকে আপনার শরীরের জামাটা দামি হয়ে থাকে কিন্তু দুইটার মধ্যে ব্যবধান এই যে জামা পড়ে গেলে বেশি চেয়ে বেশি একটু ঝাড়া দিয়ে আলমারির উপর রেখে দেন কিন্তু কুরআনের গিলাফ টা হাত থেকে
পড়ে যায় তাহলে অবুঝ বাচ্চারাও তা উঠে নাই যারা দেয় কপালে মিশায় চোখে লাগায় সিনার সাথে মিলায় মুখে চুমু খায় কারন কি কারণ হলো গিলাফ যতই কম দামের হোক তার সম্পর্ক কোরআনের সাথে আর আপনার জামার সম্পর্ক আপনার সাথে বোঝা গেল যে সম্পর্কের কারণে বস্তুর মূল্যও বেড়ে যায়
ঠিক তেমনি ভাবে মহাগ্রন্থ আল কুরআন যেহেতু এ রাতে নাজিল হয়েছে তাই লাইলাতুল কদরের এত মর্যাদা তাই এই লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আগ্রহী হওয়ার জন্য আল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কি জিনিস রাসূল তখন লাইলাতুল কদরের সাথে পরিচালন নন তারপরও তাকে জিজ্ঞেস করার অর্থ হলো অধিক আগ্রহ সৃষ্টি করা তাই জিজ্ঞেস করার সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালা এর
কয়েকটি ফজিলত বর্ণনা করলেন লাইলাতুল কদর হাজার মাস থেকে উত্তম বনী ইসরাঈলের সে আবেগের কথা শুনে মুসলমানদের মনে ইবাদতের যে আগ্রহ জমে ছিল সে বাঞ্ছনা বোধের সৃষ্টি হয়েছিল আল্লাহ তার সমাধান দিয়ে বললেন লাইলাতুল কদর হাজার মাস থেকে উত্তম অর্থাৎ হাজার মাস একাধারে ইবাদত কাটালে যে সওয়াব এক রাতের ইবাদতে তার চেয়ে বেশি সওয়াব আর এই বেশির
পরিমাণ যে কত তা একমাত্র আল্লাহই জানেন এখন কারো ভাগ্যে যদি এমন দশটি রাজ্য জুটে যায় অর্থাৎ দশটি বছর যদি কেউ এমন রাগ পেয়ে যায় যার আর তিনি এ রাজ সমূহে ইবাদতে মশগুলে থাকেন তাহলে তার অর্থ হলো তিনি হাজার বছরের বেশি সময় ইবাদত কাটানোর সওয়াব লাভ করেছেন
এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফেরেশতাগণ ও হযরত জিব্রাইল আমিন তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে অবতীর্ণ হন গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে এখানে তাকদীর সংক্রান্ত বিষয় বোঝানো হয়েছে অর্থাৎ এ রাতে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত বিধিলিপি ব্যবস্থাপক ও প্রয়োগকারী ফেরেশতাগণের কাছ থেকে হস্তান্তর করা হয় এতে প্রত্যেক মানুষের বয়স মৃত্যুর রিযিক বৃষ্টি ইত্যাদির পরিমাণ নির্দিষ্ট ফেরেশতাগণ
কে লিখে দেওয়া হয় হযরত জিবরাঈল আমিন ফেরেশতাদেরকে নিয়ে কেন আসেন কি করেন হাদীসে এর বিবরণ এভাবে রয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন লাইলাতুল কদর উপস্থিত হলে হযরত জিবরাঈল একদল ফেরেশতা সহ পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং এ রাতে যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে কিংবা বসে আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকে তাদের জন্য দোয়া করতে থাকেন
লাইলাতুল কদরের তৃতীয় ফজিলত আর বৈশিষ্ট্য হলো সালাম অর্থ শান্তি মঙ্গল এতে অনিষ্টের কোন নাম নিশানা নেই আল্লাহ তাআলা বলেন সুবহে সাদেক পর্যন্ত এই অবস্থা বহাল থাকবে
লাইলাতুল কদরের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি করতেন
প্রিয় পাঠক লাইলাতুল কদর পেয়ে আমাদের নবী তিনি কি করতেন সে সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানার জন্য আগ্রহী হয়ে থাকি এখন আমি আপনাদেরকে সে বিষয়ে বলার চেষ্টা করবঃ
উম্মুল মু'মিনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বর্ণনা করেন রমজানের শেষ দশক এলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লুঙ্গি মজবুত করে বেঁধে নিতেন এবং রাত জাগতেন অর্থাৎ ইবাদত বন্দেগীতে কাটাতেন এবং পরিবারের লোকদের কেউ জাগাতেন এর দ্বারা বোঝা যায় যে শুধু নিজে জাগলে হবে না পরিবারের লোকদের কেউ আমলের দিতে হবে
আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনুল কারীমে এরশাদ করেন তোমরা নিজেকে ও পরিবার লোকজনদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও
শবে কদর কোন সময় হতে পারে
প্রিয় পাঠক সর্বশেষ আমাদের যে মনে প্রশ্ন রয়ে যায় সেটি হল আসলে মূলত লাইলাতুল কদর এটা কততম রাত্রিতে সে বিষয়ে এখন আপনাদের সামনে বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাল্লাহ
লাইলাতুল কদর ও নির্দিষ্ট তবে কোন কোন বুজুর্গ যারা আজীবন এই নিয়ামত লাভ করেছেন তাদের মধ্যে হযরত শায়খ আব্দুল হাসান রহমতুল্লাহি আলাইহি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মৃত্যুকালে তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা এভাবে বর্ণনা করেছেন যে রমজানের প্রথম তারিখ রোববার হলে লাইলাতুল কদর ২৯ এ হয় মঙ্গলবার হলে লাইলাতুল কদর ২৭ এ হয় বৃহস্পতিবার হলে ২৫ এ হয় সোমবার হলে একুশে হয় শুক্রবার হলে ২৭ এ হয় শনিবার হলে ২৩ হয়
এছাড়াও এর কোন সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ নেই তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমরা রমজানের শেষ দশকে তালাশ করো সে অনুসারে আমি আপনাদের সামনে কিছু কথা বললাম আর সর্বশেষ যে হাদিসটি আপনাদের শোনাতে চাই সেটি হল
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখে পুণ্যের আশায় ইবাদত করে তার পূর্বের কৃত সমস্ত পাপ মাফ করে দেওয়া হয় আর লাইলাতুল কদরকে এ কারণেই লাইলাতুল কদর করে নামকরণ করা হয়েছে যে আমল না করার কারণে ইতিপূর্বে যার কোন মান সম্মান ছিল না সেও এ রাতে এবাদত বন্দেগী তওবা ইস্তেগফারের মাধ্যমে সম্মানিত হয়ে যায়
উপসংহার
প্রিয় পাঠক এতক্ষণ আপনারা শবে কদর ২০২৪ সালে কত তারিখে হবে লাইলাতুল কদরের ফজিলত এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলেন যদি আপনারা এখান থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন আপনার বন্ধুবান্ধবের মাঝে কপি লিংক এর মাধ্যমে শেয়ার করুন এবং আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করে দেন যাতে করে পরবর্তী নোটিফিকেশন আপনি পেতে পারেন
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url