রোজা সম্পর্কে আলোচনা - রোজা কি এবং কেন

প্রিয় পাঠক এখন আমি আপনাদের সামনে এমন একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যেটা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কর্তব্য এবং ফরজ সে বিষয়টি হচ্ছে রমজানের রোজা সম্পর্কে যদি আপনি রমজানের রোজা সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য পেতে চান তাহলে আমাদের এই ওয়েবসাইটটি ফলো করে দেন এবং আমাদের সাথেই থাকুন
রোজা সম্পর্কে আলোচনা - রোজা কি এবং কেন
জি আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন এখানে আমরা রোজা সম্পর্কে রোজার নিয়ত সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করব যদি আপনি তথ্য পেতে চান তাহলে আমাদের সাথেই থাকুন 

সূচিপত্রঃ রোজা সম্পর্কে আলোচনা - রোজা কি এবং কেন

  • রমজান সম্পর্কে শুরুতে কিছু কথা
  • যুগে যুগে রমজান
  • রমজানের মাসআলা
  • তাকওয়া কাকে বলে
  • হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর শাসন আমলে রমজানের ইতিহাস। একটি ঘটনা
  • লেখকের শেষ কথা

রমজান সম্পর্কে শুরুতে কিছু কথা

প্রিয় পাঠক আপনারা সকলে জানেন যে পবিত্র মাহে রমজান আসন্ন আর এক সপ্তাহ পর রমজানের মাস শুরু হতে যাচ্ছে যেখানে থাকছে রহমত মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি ইতিমধ্যে গোটা বিশ্ববাসী মাহে রমজানের স্বাগতম জানানোর জন্য প্রস্তুত হয়েছেন আর নিয়মতায় যার গুরুত্ব যত বেশি তার মর্যাদা তত বেশি তাকে স্বাগত জানানো ও বরণ করার জন্য ততদিন ধরেই মানুষ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে এবং যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অধীর অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে কখন তার আগমন ঘটবে

 আল্লাহর নেককার সারা বছরই রমজানের অপেক্ষা করতে থাকেন অভ্যর্থনা জানানোর জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠেন প্রত্যেকে নিজ নিজ দৈনন্দিন কর্মসূচি নতুন করে নির্ধারণ করে থাকেন উদ্দেশ্য হল রমজানে কিভাবে একটু বেশি সময় ইবাদত বন্দেগীতে কাটানো যায় যেসব কাজ রমজানের পর পর্যন্ত বিলম্ব করলে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে সেগুলোকে রমজান পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করেন কোন কোন কাজের পরিমাণ কমিয়ে দেন ব্যবসা-বাণিজ্য থাকলে তার গুটিয়ে নেন মানুষের নিকট দেনা

 পাওনা থাকলে তা আদায় করে দেন যাকাত ফরজ হলে তা আদায় করে দেন যাতে গরিবদের রোজা রাখতে সুবিধা হয় এভাবে দুনিয়াবী কাজকর্ম গুছিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন রমজানের আগমনের রমজান আসলে এক ধ্যান এক খেয়ালে এবাদতে মশগুল হয়ে যান এ হলো দীনদার মুত্তাকী লোকদের রমজান মাসকে স্বাগত জানানোর পদ্ধতি আর এর বিপরীত আমরা সাধারন মানুষ আমরাও রমজানকে স্বাগত জানাই আমাদের মধ্যে আবার বিভিন্ন শ্রেণি আছে যারা রাজনীতি করেন বিশেষভাবে ইসলামের

 নামে রাজনীতি তারা সাবানের শেষ তারিখে বড় বড় ব্যানারে খোশ আমদেদ মাহে রমজান বা আহলান সাহালান মাহে রমজান লিখে একটা মিছিল বের করে কিছু স্লোগান দেন আর মনে মনে তৃপ্তি বোধ করেন যে বিরাট সওয়াবের কাজ করলাম এভাবে তারা রমজানকে স্বাগত জানাই আর যারা ব্যবসায়ী তারা রমজানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে প্রায় ছয় মাস আগে থেকে তারা ব্যস্ত হয়ে থাকে তাদের নিকট

 রমজান হল অধিক মুনাফা অর্জনের মাস আর যারা ভোক্তা শ্রেণি তারা রমজানকে স্বাগত জানাই মজার মজার খাবার আর রকমারি ইফতারির আয়োজন আর দামী দামী পোশাক খরিদ করার মাধ্যমে দৃষ্টিভঙ্গির এ ভিন্নতার কারণে রমজান কারো জন্য হয় ইবাদতের মাস কারো জন্য হয় উৎসবের মাস অথচ রমজান কোন উৎসবের মাস নয় বরং রোজা রাখার মাধ্যমে রুহকে কলুষ মুক্ত করার মাস

 রমজান শব্দটি সেদিকে ইঙ্গিত করে কেননা রমজান আরবি শব্দ রমজ ধাতু থেকে এর উৎপত্তি অর্থ দহন করা ঝলসে দেওয়া এক মাস রোজা রাখার মাধ্যমে সাধকের সকল পাপ পঙ্কিলতা পুড়ে ছাই হয়ে যায় হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন রমজান নাম রাখার কারণ হলো তা গুনাহকে জ্বালিয়ে দেয় আর সাওম শব্দটিও আরবি এর অর্থ বিরত থাকা রমজান সাওম সিয়াম শব্দগুলি কুরআনে ব্যবহৃত হয়েছে কিন্তু আমরা যেটা বলি রোজা এটা

 কোরআনেও নাই হাদিসেও নাই রোজা শব্দটি মূলত ফার্সি এটা আরবি সাউন্ড শব্দের প্রতিশব্দ রূপেই উর্দু ও বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয় এর অর্থ বিরত থাকা আর শরীয়তের পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়ত সহকারে পানাহার এবং স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকাকে রোজা বলা হয় রোজার বিধান আরোপ করে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন পবিত্র কুরআনের মধ্যে সূরা বাকারার 183 নাম্বার

 আয়াতে হে ঈমানদারগণ তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যে রূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো উক্ত আয়াতে মুসলমান ঈমানদারদের ওপর রোজা ফরজ হওয়ার বিষয়টি একটি বিশেষ নজির উল্লেখ সহকারে দেওয়া হয়েছে তা হল এর রোজা সাধনা তোমাদের জন্য নতুন কিছু নয় বরং পূর্ববর্তী সকল নবী রাসুল ও তাদের উম্মতেরা এ রমজানের বিধান পালন করেছেন

যুগে যুগে রমজান

প্রিয় পাঠক আমরা অনেকে রোজা রাখি এবং আমরা জানি না যে রোজা আসলে আমরা শুধু রেখেছি না ইতি পূর্বে কোন উম্মতেরা রেখেছেন সে বিষয়ে এখন আমি আপনাদের সামনে আলোচনা করব তো চলুন জানা যাকঃ

পৃথিবীর প্রথম মানুষ থেকেই রমজানের ধারাবাহিকতা চলে আসছে হযরত আদম আলাইহিস সালাতু সালাম চন্দ্র মাসের ১৪ ১৫ ও ১৬ তারিখে রোজা রাখতেন এই তিনটি দিনকে আইয়ামে বীজ বা উজ্জ্বল দিন বলা হয় এছাড়া হযরত নূহ আঃ একে শাওয়াল ও দশ জিলহজ ছাড়া সারা বছর রোজা রাখতেন এমনই ভাবে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম হযরত মূসা আলাইহিস সালাম দাউদ

 আলাইহিস সালাম ঈসা আলাইহিস সালাম প্রত্যেকের তার নিজ নিজ সময়ে রোজা রেখেছেন এক কথায় পরবর্তী বলতে হযরত আদম আলাইহিস সালাত ও সালাম থেকে শুরু করে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাতু সালাম পর্যন্ত সকল যুগের মানুষকেই বোঝানো হয়েছে আর এদিকে ইঙ্গিত করে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনুল কারীমের মধ্যে বলেন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল এ উম্মত যেন রমজানের কষ্টের কথা শুনে ঘাবড়ে না যায় কেননা একাকিত্বের অনুভূতি মানুষকে ঘাবড়ে দেয় পক্ষান্তরে সে যখন

 জানতে পারে যে তার ওপর আরোপিত বিধান কষ্টসাধ্য হলে হলেও সেটা কোন অভিনব কিছু নয় বরং পূর্বেও অন্যরা এ বিধান পালন করেছে তখন স্বভাবতো এসে মানসিক স্বস্তি ও শক্তি সঞ্চয় করে তার হিম্মত মনোবল ও উদ্দম বেড়ে যায় এমনকি প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তার মাঝে সৃষ্টি হয় মহান আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন আল্লাহতালা মানুষের অনুভূতিতে বিষয়টিকে আরো সহজ করে দেওয়ার জন্য ঘোষণা করেছেন এ রমজানের বিধান একটা দীর্ঘ সময়ের জন্য নয় বরং হাতে গোনা কয়েকদিন

 মাত্র যা দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যায় এ পর্যন্ত রোজার হুকুমের মধ্যে সব ধরনের মুমিন বান্দাই শামিল ছিল আল্লাহ তাআলা আরও সহজ করে দিলেন অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ ব্যাধি গ্রস্ত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময়ের সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে আর রোজা যাদেরকে অতিশয় কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিরিয়া অর্থাৎ একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করবে আদায় করবে আল্লাহ

 তা'আলা আরো বলেন রোজা যাদের জন্য অতিশয় কষ্টদায়ক হয় তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে আর অতিশয় কষ্ট বলে অতি বাধ্যক্য বা চির রোগ যা ভালো হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই এমন ব্যক্তিদের কে বোঝানো হয়েছে তাদের কর্তব্য হলো প্রতি রোজার বিনিময়ে একটা সরকার স্মৃতির পরিমাণ খাদ্য বা মূল্য কোন গরিব মিসকিনকে দেওয়া হা তবে এ ধরনের ব্যাক্তিও যদি কখনো সুস্থ হয় এবং রোজা রাখার মতো শক্তি অর্জন করতে পারে তাহলে তাকে সাধ্য অনুযায়ী রোজা

 কাজা করতে হবে মহান আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন রোজা যাদের জন্য অতিশয় কষ্টদায়ক হয় তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাওয়াবে এ আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে বুখারী মুসলিম আবু দাউদ তিরমিজি নাসাঈ প্রভৃতি হাদিসের সমস্ত ইমামগণ সাহাবী হযরত সালামা ইবনে অকুয়া রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদিসের উদ্ধৃত করেছেন যাতে বলা হয়েছে যে যখন শীর্ষক

 আয়াতটি নাযিল হয়ে হয় তখন আমাদেরকে এ মর্মে একতিয়ার দেওয়া হয়েছিল যে যার ইচ্ছা সে রোজা রাখতে পারে আর যে রোজা রাখতে না চায় সে ফিরিয়ে দিবে এরপর যখন পরবর্তী আয়াত তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাসটি পাবে সে যেন এর মাসের রোজা রাখে নাযিল হলো তখন ফিরিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার রহিত হয়ে সুস্থ সামর্থ্যবান সাবালক নারী পুরুষ সকলের ওপর শুধুমাত্র রোজা রাখাই জরুরি সাব্যস্ত হয়ে গেল অর্থাৎ রোজার পরিবর্তে ফিরিয়ে দেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা সুস্থ লোকদের জন্য রোহিত হয়ে গেল

রমজানের মাসআলা

প্রিয় পাঠক রমজানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসয়ালা সম্পর্কে আপনাদের সামনে এখন আলোচনা করব তো চলুন জানা যাকঃ

কোরআনে কারিমের আয়াত ও হাদিসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী রমজানের চাঁদ উদিত হওয়ার পর প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কপ্রাপ্তবয়স্ক বালেগ বালেগা মুকিম মুসলমান পুরুষ ও হায়েজ নেফাস থেকে পবিত্র মহিলার ওপর পূর্ণ একমাস রোজা রাখা ফরজ আর অতিশয় বৃদ্ধ যার রোজা রাখার কোন ক্ষমতা নেই বা এমন অসুস্থ যার ভালো হওয়ার আশা নেই তারা তাৎক্ষণিকভাবে ফিদিয়া দেবে গর্ভবতী মহিলা রোজা রাখলে নিজের বা গর্ভস্থ সন্তানের প্রাণহানি বা মারাত্মক স্বাস্থ্য হানির সব প্রবল আশঙ্কা থাকলে এমনভাবে দুগ্ধ দানকারী মহিলা রোজা রাখলে যদি সন্তান দুধ না পায় আর ওই সন্তান অন্য কোন খাবারে অভ্যস্ত না হয় তাহলে এ ধরনের মহিলাদের রোজা ভাঙ্গা জায়েজ আছে

অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে আজকে আমাদের সমাজে যারা সম্পদশালী তারা অনেকেই মনে করেন যে আমরা এত অভ্যাস নেই রোজা রাখতে আমার কষ্ট হয়ে যায় যার কারণে গরিব মিসকিনকে খাবার দেবো এতেই হয়ে যাবে ঠিক তেমনি ভাবে আমাদের উঠতে বয়সের ছেলে মেয়ে যারা সাবালক সাবালিকা হয়ে গেছে তাদের ব্যাপারেও আমাদের যথেষ্ট দুর্বলতা আছে

আমরা মনে করি ছেলেটা বা মেয়েটা যদি রোজা রাখে তাহলে তার স্বাস্থ্যটা ভেঙে যাবে অথচ একটা রমজানের এত গুরুত্ব যে ইচ্ছা পূর্ব কোন শরীর ও জোর ব্যতীত কেউ যদি একটা রোজা ছেড়ে দেয় এর পরিবর্তে সারা বছর রোজা রাখলেও ওই একটা রোজার ঘাটতি পূরণ হবে না

এ বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র হাদিসের মধ্যে বলেন যে ব্যক্তি অসুস্থতা ও সফর ব্যতীত ইচ্ছাকৃতভাবে রমজানে একটি রোদে ছেড়ে দিল সে আজীবন রোজা রাখলেও ঐ একটি রোজার হক আদায় করতে পারবে না

তাই সন্তানদের জন্য এ ধরনের অন্যায় মায়া মমতা জায়েজ নাই এর দ্বারা আপনি নিজ হাতে তাদের ধ্বংসের পথ করে দিলেন এজন্য তাদের সাথে সাথে আপনাকেও জবাবদিহি করতে হবে হেফাজত করুন

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারীমের মধ্যে বলেন হে ঈমানদারগণ আল্লাহতালা তোমাদের উপর রোজা ফরজ করেছেন যেমন ফরজ করেছিলেন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো এ রোজা ফরজ করার অন্যতম উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'য়ালা ঘোষণা করেন যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো এর দ্বারা বোঝা যায় যে রোজার মুখ্য উদ্দেশ্য হল বান্দার মধ্যে তাকওয়ার গুন সৃষ্টি করা মুত্তাকী বানানো

তাকওয়া কাকে বলে

প্রিয় পাঠক আমরা তাকওয়ার কথা প্রায় প্রায় শুনে থাকি কিন্তু আমরা জানি না যে আসলে তাকওয়া জিনিসটা কি সে সম্পর্কে আমি আপনাদেরকে এখন বলবো তো চলুন জানা যাকঃ

তাকওয়া কি জিনিস আসলে তাকুয়ার মর্মার্থ টা আমরা অনেকেই সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারি না তাকওয়া শব্দটি আরবি এর মূল ধাতু বেকায়তন অর্থ বাচা মুক্তি নিষ্কৃতি সতর্কতা ভয়-ভীতি ইত্যাদি পরিভাষায় তাকওয়া বলা হয় মনে আল্লাহর ভয় রেখে অথবা সর্বদা তার স্মরণ জাগ্রত রেখে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদর্শিত পথে জীবন পরিচালিত করা মোটকথা জীবনের কোন ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর হুকুম যেন লঙ্ঘিত না হয় এরকম সতর্কতার সাথে চলার নামই

 হলো তাকওয়া, একবার হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হযরত ওবায় ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে তাকওয়ার ব্যাখ্যা দিতে অনুরোধ করলে তিনি জবাবে বলেন আপনি কি কখনো কাটা ঘেরা পথ অতিক্রম করেছেন ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু উত্তরে বললেন হা ওবা ইবনে কা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তারপর জিজ্ঞেস করলেন তখন আপনি কি করতেন ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন আমি খুব সতর্কতার সাথে সে পথ অতিক্রম করে চলে এসেছি হযরত উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন একেই বলা হয় তাকওয়া

, সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে হলে একটি সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে এ তাকওয়ার কোন বিকল্প নেই লোক চক্ষুর অন্তরালে পুলিশি প্রুভারা যেখানে অনুপস্থিত রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী যেখানে ্ অপারগ স্যাটেলাইটের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি যেখানে অসহায় সেখানে তাকওয়া বা খোদাভীতি একজন মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখতে পারে

হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর শাসন আমলে রমজানের ইতিহাস। একটি ঘটনা

প্রিয় পাঠকের তা খাওয়া সম্পর্কে একটি ঘটনা আমি আপনাদেরকে এখন বলব তো চলুন জানা যাকঃ

হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তার খেলাফত আমলে রোজা সাধারণের অবস্থা সরে জমিনে দেখার উদ্দেশ্যে রাতে বিভিন্ন সময় ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতেন একবার তিনি ঘুরতে ঘুরে এক রাখালের কাছে গেলেন সে বকরী জড়াচ্ছিল তাকে গিয়ে বললেন আমি একজন পথিক আমার খুব ক্ষুধা ও তৃষ্ণা লেগেছে তুমি আমাকে একটা বকরি থেকে একটু দুধ দিয়ে দাও আমি তা পান করবো রাখাল বলল আমি
 তো রাখালী করেছি আমার দায়িত্ব দেওয়ার কোন অধিকার আমার নেই দুধ কেবল বকরির মালিকই দিতে
 পারেন এবার তিনি বললেন দেখো দেখো এককাজ কর তুমি বরং একটা বকরি আমার নিকট বিক্রি করে দাও তুমিও কিছু পয়সা পেলে আমারও প্রয়োজন সারলো মালিকও দেখল না তখন রাখাল জবাব দিল ওহে আল্লাহর বান্দা তাহলে আল্লাহ কোথায় অর্থাৎ মালিক দেখল না কিন্তু প্রকৃত মালিক যিনি তিনি তো দেখছেন একেই বলা হয় তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্থাৎ ঘরে বাইরে মাঠে ময়দানে বনে জঙ্গলে সকল স্থানে সর্ব অবস্থায় একজন মানুষের অন্তরে এই অবস্থা জাগ্রত থাকা যে আমি যা করছি আল্লাহ তা'আলা দেখছেন এক জামানা এমন ছিল যে একজন রাখালের ভেতর যে তাকওয়া ছিল আজ অনেক শিক্ষিত লোকদের মধ্যেও সে তাকওয়া দেখা যায় না আশা করছি বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন প্রিয় পাঠক

লেখকের শেষ কথা

প্রিয় পাঠক এতক্ষণ আপনারা রোজার তাকওয়া সম্পর্কে বা বিভিন্ন সম্পর্কে রোজার মাসাইল সম্পর্কে জানতে পারলেন যদি সেখান থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার বন্ধু বান্ধবের কাছে কপি লিংক এর মাধ্যমে পৌঁছে দিবেন এবং আমাদের ওয়েবসাইটটি সাবস্ক্রাইব করে দিবেন ফলো করে দিবেন এবং কোন ভুল যদি আপনার দেখতে পান বা কোন কিছু আপনারা জানতে চান তাহলে আমাদের ওয়েবসাইটে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার দেওয়া আছে সেখানে সেখানে নক করবেন আমরা আপনাদেরকে বলার চেষ্টা করব

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪