শীতকালে কবুতরের পরিচর্যা কিভাবে করব - কবুতর পালন পদ্ধতি
আজকে আমরা আপনাকে জানাবো শীতকালে কবুতরের পরিচর্যা কিভাবে করব - কবুতর পালন পদ্ধতি এই সম্পর্কে যদি আপনারা খুব সুন্দর ভাবে কবুতর লালন পালন করতে চান এবং শীতকালে কবুতরের পরিচর্যা কিভাবে করব - কবুতর পালন পদ্ধতি জানতে চান তাহলে আমাদের সাথেই থাকুন
যে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন এখানে আমরা শীতকালে কবুতরের পরিচর্যা কিভাবে করব - কবুতর পালন পদ্ধতি এবং কোন কবুতর লালন পালন করবেন এবং কবুতরের নানান দিক সম্পর্কে আলোচনা করব যদি আপনারা বিস্তারিত তথ্য জানতে চান তাহলে সূচিপত্র দেখে আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন
সূচিপত্রঃশীতকালে কবুতরের পরিচর্যা কিভাবে করব - কবুতর পালন পদ্ধতি
ভূমিকা
আমরা অনেকেই কবুতর ভালোবাসি এবং শখের বসে কবুতর লালন পালন করার ইচ্ছা করি কিন্তু আমরা জানি না কবুতরকে কিভাবে লালন পালন করতে হয় এমনকি সামনে শীত আসন্ন এই শীতে কিভাবে কবুতরকে রাখতে হয় এবং পরিচর্যা করতে হয় তা আমরা জানিনা আজকে আমি আপনাদেরকে সে বিষয়ে জানাবো যদি জানতে চান তাহলে ধৈর্য সহকারে সমস্ত লেখা গুলি পড়ুন
শীতকালে কবুতরের যত্ন
সাধারণত আমরা সকল প্রকারের লক্ষ্মী শীতকালে বা অন্যান্য কালে কবুতর লালন পালন করে থাকি কিন্তু শীতকালে কবুতর লালন পালন করার একটু ঝুঁকিপূর্ণ কারণ শীতকাল আসলে কবুতরের চেহারার মধ্যে পরিবর্তন হয় কবুতর খুব কম খায় এবং গায়ের পসম গুলি ফুলিয়ে রাখে এতে করে আমরা চিন্তিত হই যে এখন আমরা কি করব তো শীতকালে যে সমস্ত যতগুলো আপনারা নিবেন তা আমি আপনাদেরকে নিচে জানাচ্ছি তো চলুন জানা যাকলঃ
- সপ্তাহে এক অথবা দুই দিন কাঁচা হলুদ; সজনে পাতা; পুদিনা পাতা; তুলসী পাতা; নিমপাতা; এ পাতাগুলির রস করে পানির সঙ্গে কবুতরকে খেতে দেওয়া
- সপ্তাহে কবুতরকে দুই অথবা তিন দিন লেবু এবং লবণ মিশ্রণ করে পানি খেতে দেওয়া
- এবং সবচেয়ে বড় সাবধানতা অবলম্বন করবেন শীতকালে কখনোই নতুন কবুতর কিনে নিয়ে এসে ঘরে ঢোকাবেন না এতে করে আগের থেকে যে কবুতর গুলি আছে তারা অসুস্থ হয়ে যেতে পারে
- শীতকালে কবুতরকে যে পানি খানি দিবেন তা হালকা গরম করে খেতে দিবে
- শীতকালে কবুতরের ঘরে কাউকে প্রবেশ করতে দিবেন না যদি প্রবেশ করতেই হয় তাহলে জীবন নষ্ট স্প্রে করার মাধ্যমে তারপর প্রবেশ করতে দিবেন
- শীতকালে কবুতরকে ক্যালসিয়াম জিংক এবং ভিটামিনযুক্ত ঔষধ খাওয়াবেন যাতে করে তাদের গা গরম থাকে
- শীতকালে বিশেষ করে কবুতরকে গম; সরিষা; ফিড; মিশ্রণ করে খেতে দেবেন এতে করে শরীর গরম থাকবে
- শীতকালে রাত্রিবেলায় কবুতরের ঘরটাকে ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার জন্য আপনি বাজার থেকে লাল আলোর বাল্ব গুলি ক্রয় করে নিয়ে লাগাবেন এতে করে একটু খরচ হবে কিন্তু আপনার কবিতার সুস্থ থাকবে
কবুতর লালন পালন করার পদ্ধতি
আমরা যারা গ্রামাঞ্চলে কবুতর লালন পালন করি অথবা যারাই কবুতর লালন পালন করি না কেন তারা জেনে থাকা আবশ্যক খুব তো দুইভাবে লালন-পালন করা যায় তো চলুন জানা যাকঃ
(১) খোলা বাতাসে ছেড়ে দিয়ে
(২) এবং আবদ্ধ অবস্থায় ঘরের ভেতর রেখে দিয়ে
(১)প্রথমে আমরা জানব খোলা বাতাসে ছেড়ে দিয়ে কিভাবে কবুতর লালন পালন করবেন এটা অত্যন্ত সহজ একটা পদ্ধতি এখানে তেমন কোনো পরিশ্রম হয় না এবং আপনার কবুতর পালন করতে খুবই সহজ হয় এটাতে আপনার খাদ্য খুবই কম লাগে শুধুমাত্র এক অথবা দুবেলা খাবার দিলে হয়ে যায় এতে আপনার করণীয় হচ্ছে সকাল বেলায় উঠে আপনাকে কবুতর ছেড়ে দিতে হবে যদি সকাল বেলা কিছু
খাদ্য দেন তাহলে কিছু খেলো সাধারণত কিছু খায় না ছেড়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কবুতর গুলি চলে যায় এরপরে বিকেল বেলা আবার আপনাকে দেখতে হবে যে আপনার সমস্ত কবিতা গুলি আসলো কিনা এর পরে কিছু খাদ্য দিলেন তারা খেয়ে নিজ নিজ বাসায় উঠে পড়বে এর মাঝখানে কবুতর এখানে সেখানে বিলে ঘুরে বেড়াবে এবং সেখান থেকে খাদ্য গ্রহণ করবে এতে আপনার লাভ হবে
(২) আবদ্ধ অবস্থায় ঘরের ভেতর রেখে কবুতর পালন এটাতে আপনার তেমন একটা লাভ হবে না কারণ আপনাকে সঠিক সময় তিন বেলা কবুতরের উদর পরিপূর্ণ করে খাবার দিতে হবে এবং আপনি যেখানে কবুতরগুলিকে রাখবেন সে জায়গাটা সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে হবে কারণ কবুতর সেখানে থাকবে
সেখানেই খাবে সেখানেই পায়খানা করবে আর যখন আপনি মুক্ত অবস্থায় লালন পালন করবেন তখন কবুতর পায়খানা সে বাসাতে করবে না সে বাসার বাহিরে পায়খানা করে আসবে একটা দিক লক্ষ্য রাখতে হবে যে সব সময় যেন আপনার কবুতরের বাসাটা সুন্দর থাকে পরিচ্ছন্ন থাকে এতে ওরে আবদ্ধ অবস্থায় কবুতর লালন পালন করে তেমন একটা লাভবান হওয়া যায় না
কবুতরের ভ্যাকসিন
আমরা জানি যে সাধারনত প্রত্যেকটা প্রাণী লালন পালন করার ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয় যেমন ধরুন গরু; ছাগল; মহিষ; মুরগি; হাঁস; সকলের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয় তেমনিভাবে কবুতরের জন্য ভ্যাকসিনের প্রয়োজন আছে এখন আমরা জানবো কিভাবে কত দিনে ভ্যাকসিন দিতে হয় তো চলুন জানা যাকঃ
(১) প্রথম ভ্যাকসিনঃ কবুতরকে প্রথম ভ্যাকসিন করতে হয় ৩০ দিন পর রানীক্ষেত এটা আপনি পানির সঙ্গে মিশিয়ে ২ ঘন্টা যাবত খেতে দিতে হবে এরপরে যতটুক খাবে পানি ভালো আর যদি পানি না খায় তাহলে ঐ সমস্ত ভ্যাকসিনের পানিগুলি দূরে কোথাও ফেলে দিতে হবে যদি আপনি দূরে না ফেলেন তবে সেখান থেকে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে এবং কবুতরের সমস্যা হতে পারে(তবে খেয়াল রাখবেন প্রত্যেকটা ভ্যাকসিন সকাল বেলায় করতে হয় অথবা রাত্রি বেলায় করতে হয়)
(২) দ্বিতীয় ভ্যাকসিনঃ তো তাকে প্রথম ভ্যাকসিন করার ৩০ দিন পর অর্থাৎ দুই মাসের বেলায় আরেকটি ভ্যাকসিন করতে হয় গামবুড়ো এটার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম ভ্যাকসিন পানির সঙ্গে মিশিয়ে দুই ঘন্টা যাবত খেতে দিতে হবে এরপর যতটুকুন পানি বাঁচে তা দূরে কোথাও ফেলে দিতে হবে এছাড়া কবুতর অসুস্থ হয়ে যেতে পারে(তবে খেয়াল রাখবেন প্রত্যেকটা ভ্যাকসিন সকালবেলায় করতে হয় অথবা রাত্রে বেলায় করতে হয়)
কৃমির ডোজ
প্রত্যেকটা প্রাণীকে কৃমির ডোজ করতে হয় তেমনিভাবে কবুতরকেও কৃমির ডোজ করতে হয় এখন আমরা জানিনা কখন কবুতরকে কৃমির ডোজ করতে হয় তো আজকে আমি আপনাদেরকে সেটাই জানাবো তো চলুন জানা যাকঃ কবুতরকে প্রত্যেক তিন মাস পর পর কৃমির ডোজ করতে হয় এটা ভেটেনারি ডক্টরের কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে এসে চিনির সঙ্গে মিস দিয়ে পানি খেতে দিতে হয় এবং এটা দুই ঘন্টা যাবত খেতে দিতে হয় এরপর সেটাকে ফেলে দিতে হয:(তবে খেয়াল রাখবেন কৃমির ডোজ এটা সকাল সকাল করতে হয়)
কোন জাতের কবুতর লালন পালন করলে বেশি লাভবান হবেন
কবুতরের জাতের মধ্যে ভালো মন্দ আছে আমাদেরকে ভালো মানের কবিতর পালন করতে হবে তাহলে আমরা উপকৃত হব আমরা লাভবান হব তো এখন আমি আপনাদেরকে সে দুইটা জাতির কথা বলব এবং এই দুইটা যাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে চলুন জানা যাকঃ
দেখতে সুন্দর করার জন্য যে সমস্ত কবুতর লালন পালন করা হয় তাহলেঃ মুক্ষী; চিলা; গিরিবাজ; ময়ূরপঙ্খী; সিরাজী; লাহোরী; সিলভার কিং; ডাউকা; গোলা; শট ফেস; ইত্যাদি ধরনের কবুতর পাওয়া যায় এবং আরও বহু ধরনের কবুতর পাওয়া যায় যেগুলি মানুষ শখের বসে লালন পালন করে থাকে
এবং কিছু কবুতর আছে যেগুলো শুধুমাত্র আমরা লালন পালন করি এজন্য সেখান থেকে আমরা বাচ্চা হলে বাচ্চা গুলি বাসায় খেয়ে ফেলি এবং যাদের বাণিজ্য আকারে কবুতর আছে তারা বাচ্চাগুলি বাজারে নিয়ে বিক্রি করি এটা হলো ব্যবসার ধরন আর উপরে বর্ণিত কবুতর গুলি মানুষ শখের বসে পালন করে থাকে এমনকি সেগুলোর বাচ্চাও মানুষ খেয়ে থাকে এবং সেখান থেকে বাচ্চা বিক্রি করাও যেতে পারে সেটা আপনার উপর নির্ভর করে
লেখকের শেষ কথা
সম্মানিত পাঠক বৃন্দ আপনারা এতক্ষণ জানতে পারলেন শীতকালে কবুতরের পরিচর্যা কিভাবে করব এবং কবুতর লালন পালন পদ্ধতি এবং কবুতরের নানান জাত সম্পর্কে জানতে পারেন আশা করছি আপনারা সে অনুযায়ী যদি কবুতরের খামার পরিচালনা করতে পারেন তাহলে লাভবান হবেন যদি আপনার লাভবান হয়ে থাকেন তাহলে আমাদের এই ওয়েবসাইটটির কথা আপনার বন্ধু বান্ধবের কাছে
ছড়িয়ে দিন অর্থাৎ কপি লিংক দিয়ে দিন এবং আপনি যদি অন্য কোন প্রাণী লালন পালন করার জন্য কি কাজ করতে হয় জানতে চান তাহলে আমাদেরকে কমেন্ট সেকশনে জানিয়ে দিন আমরা সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করব ধন্যবাদ
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url